বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 


মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন:-''স্মরণ কর সেই সময়ের কথা যখন আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের নিকট থেকে এই মর্মে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই ইহাকে মানুষের কাছে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না। অতঃপর তারা সে অঙ্গীকারকে তাদের পিছনে ছুড়ে ফেলে দিল এবং তার বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করল। কতই না নিকৃষ্টতম তাদের খরিদকৃত অর্থ।'' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৮৭)



প্রথমতঃ মহামতি ইমাম আবু হানীফা (রঃ) এর পরিচয় ও তাঁর বাণী সমূহ। তিনি মুসলিম জাহানের ইমাম। তাঁর উপনাম - আবু হানীফা, নামঃ আন-নো'মান, পিতার নাম ছাবেত। তিনি ৮০ হিজরীতে ইরাকের কুফা নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং ১৫০ হিজরীতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পরলোক গমন করেন। তিনি পারস্য বংশোদ্ভুত এবং বিখ্যাত তাবেয়ে তাবীঈন ছিলেন। 



ইমাম শাফেয়ী (রঃ) তাঁর প্রশংসায় বলেছেনঃ ''আবূ হানীফা হতে বড় ফকীহ আমি আর কাউকে দেখিনি''। তিনি আরো বলেনঃ ''মানুষেরা (আলেমগণ) ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবূ হানীফা (রঃ) এর মুখাপেক্ষী।'' 



তাঁর দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থ ০১. আল-ফিকহুল আকবর, ০২. আল-আলেম ওয়াল মুতাআ'ল্লেম। 



মহামান্য ইমাম সাহেবের বাণীসমূহঃ- 

০১.''(কোন সমস্যা সমাধানে) হাদীছ সহীহ হলেই সেটা আমার মাযহাব'' (আল হাশিয়া আলাল বাহরির রাঈক ১/৬৩) 


০২. ''আমি কুরআন হাদিসের ফাতওয়া কোন‌‍‌‌ দলীলের ভিত্তিতে দিয়েছি তা যে ব্যক্তি অবগত নয় তার জন্য আমার ফাতওয়া অনুসরণ করা হারাম।'' (প্রাগুক্ত ৬/২৯৩) 



০৩. '' আমার উক্তির দলীল যে ব্যক্তি জানে না আমার অভিমত দ্বারা ফাতওয়া দেয়া তার জন্য হারাম।'' 



০৪. অন্য বর্ণনায় বর্ধিত আছে '' কারণ আমরা মানুষ আজ এক কথা বলি আগামীকাল তা থেকে আবার প্রত্যাবর্তন করি।'' 



০৫. ''আমি কোন সিদ্ধান্ত পেশ করার পর যদি এমনটি পরিলক্ষিত হয় যে, তা কুরআন ও হাদীসের পরিপন্থী হা হলে আমার কথাটিকে তোমরা ছুড়ে ফেলে দিও।'' (আল-ফাল্লানী, আল-ঈকাজ নামক গ্রন্থে পৃষ্ঠা-৫০) 



০৬. ''ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার কোন সিদ্ধান্ত রাসুল (সা) এর হাদীসের বিপরীত হলে আমরা কি করব? তিনি উত্তরে বললেনঃ রাসুল(সা) এর হাদীসের মোকবিলায় আমার উক্তি পরিত্যাগ করো। পুনরায় তাকে প্রশ্ন করা হল, আপনার কোন সিদ্ধান্ত সাহাবীগণের বিপরীত হলে কী করণীয়? তিনি জবাব দিলেনঃ সাহাগণের সিদ্ধান্তের প্রতিকূল আমার সিদ্ধান্ত তোমরা বর্জন করো।'' 

(হাকীকাতুল ফিকহ পৃষ্ঠা-৬৯) 


০৭. ইমাম আবু হানীফা হতে (রঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলতেনঃ ''যত দিন মানুষের মধ্যে হাদীস অন্বেষণকারী থাকবে ততদিন তারা সৎ ও কল্যাণের পথে থাকবে। আর যখন তারা হাদীস বিহীন জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করবে তখন তারা ভ্রান্তি ও বিপর্যয়ে নিপতিত হবে।'' (এ উক্তিটি শাআররানী মিযান নামক গ্রন্থে উল্লখ করেছেন; হাকীকাতুল ফিক‌হ পৃষ্ঠা-৭০) 



০৮. ইমাম সহবে হতে বর্ণিতঃ তিনি বলতেন:'' সাবধান! আল্লাহর দ্বীনে নিজেদের অভিমত প্রয়োগ করে কোন কথা বলো না। সর্বদা সুন্নতের অনুসরণ করবে, যে ব্যক্তি সুন্নতের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে সে পথভ্রষ্ট হবে।'' (মীযানে উল্লেখিত হাকীকাতুল ফিকহ পৃষ্ঠা-৭২) 



০৯. নূহ আল-জামে হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি ইমাম আবু হানিফাকে (র.) জিজ্ঞেস করলাম, মানুষেরা (আলেমগণ) আ'রায এবং আজছাম সম্পর্কে যে নতুন নতুন উক্তি উদ্ভাবন করেছে সে বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি উত্তরে বললেন: ''এগুলো দার্শনিকদের উক্তি বৈ কিছুই নয়। তুমি অবশ্যই রসুল (সা) এর হাদীস এবং সালাফীদের পথ অনুসরণ সদা ব্রতী হবে। সাবধান! নব উদ্ভাবিত পথ থেকে দূরে থাকবে; কেননা তা বিদআত।'' (খতীব উপরোক্ত বর্ণনাটি আল-ফিকহ ও মুতাফাক্কীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন) 

উল্লেখ্য আজছাম ঐ সকল বস্তুকে বলা হয় যা স্বনির্ভর কোন স্থানের মুখাপেক্ষী নয়। আর আ'রায ঐ সকল বস্তুকে বলা হয় যা পরনির্ভরশীল। তার অস্তিত্ব কোন স্থানের মুখাপেক্ষী। 


১০. অন্য বর্ণনায় এসেছে- ''হে ইয়াকুব (ইমাম আবু ইউসুফ)! আফসোস তোমার জন্য! তুমি আমার নিকট হতে যা কিছু শ্রবণ কর তার সবটাই লিপিবদ্ধ করোনা; কেননা আমি আজ একটি অভিমত পেশ করি আগামীকাল তা আবার পরিত্যাগ করি। আবার হয়তো আগামীকাল একটি ফাতওয়া প্রদান করব পরশু আবার তা পরিত্যাগ করব।''