তরুণ বয়সে এমনিতেই আগুনের প্রতাপ অনেক বেশিতার মধ্যে আপনাদের মত বিজ্ঞঅভিভাবকদের অতিউৎসাহ পেয়ে তারা শুধু নেচে গেয়ে দিন অতিবাহিত করে তা নয়বরং বিভিন্ন ধরনের কার্ড খেলে মূল্যবান সময় অপচয়, বাজে ঝগঝ প্রেরণ, রাত জেগে কথা বলা পর্নোগ্রাফি দেখা ইত্যাদি নৈতিক অবক্ষয় মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, যা তরুণ-তরুণীদের ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেশুধুমাত্র আপনাদের জ্ঞানপাপী মানসিকতা, কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গি সমান অধিকারের নামে বেপর্দা উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করার স্বীকৃতি দেয়ার কারণেএখন আমি আপনাদের সাথে ্যালেঞ্জ করতে চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, ব্যক্তিগত জীবনে পর্দার বিধান মেনে চলে, তাঁরা কেউ উল্লেখিত ঘৃণ্য নৈতিক অবক্ষয়মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়বিশেষ করে ছাত্র শিবিরের যে কোন পর্যায়ের জনশক্তিক সুসভ্য সমাজ গঠনে অন্তরায় যে কোন ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সাথে আপনি জড়িত হতে দেখেননি এবং ইনশাআল্লাহ দেখবেন নানৈতিক অবক্ষয়ের ফলাফল কি পরিমাণ ভয়াবহ অমানবিক হতে পারে তা আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাইখোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪% শিশু িতৃপরিচয়হীনভাবে জন্ম নেয়ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মা-বাপের সামনে পর্নোগ্রাফি ব্রাউজ করে, ফলে স্বয়ং মা-বাপরা বিব্রতবোধ করেfamily নেই বললেই চলে, বুড়ো হলে শেষ ঠিকানা বিদ্ধাশ্রমযদিও তারা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক বেশি সমৃদ্ধ কিন্তু তারপরও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাইআত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি দেশগুলোতেআর নৈতিকতা লজ্জা-শরমের সীমা পরিসীমা যদি নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে মাঠে ময়দানের বিবেকহীন চতুষ্পদ জন্তু গরু-ছাগল আর আমরা বিবেকওয়ালা সৃষ্টির সেরা জীব দাবিদার মানুষের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? সুতরাং সমান অধিকারের বুলি আওড়িয়ে শুধু বিজ্ঞান প্রযুক্তি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করলে হবে না, সাথে সাথে নৈতিকতা হায়া-শরমের ব্যাপারটিও লক্ষনীয়নৈতিকতা সম্পন্ন একটি সমৃদ্ধ জাতি সুসভ্য সমাজ গঠনে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানঅন্যথায় বিজ্ঞান প্রযুক্তি অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়াতে বাধ্যআর এই বিরাট উপলব্ধির কাজটি করে যাচ্ছেবাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকিন্তু এগুলো আপনাদের পছন্দ হয় নাএখন চিন্তা করে দেখুন আপনারা দেশের জন্য যতটা না মঙ্গল, তার চেয়ে অনেকগুণ ভয়ংকর
চতুর্থত
যুগে যুগে অনেক স্বনামধন্য বিখ্যাত মনীষী ধর্মীয় কারণে অথবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে অথবা প্রভাবশালীদের পদলেহী বা অনুগত না হওয়ার কারণে নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, এমনকি মৃত্যুদণ্ডেও দণ্ডিত হয়েছেনইতিহাসের পাতা বর্তমানের সমসাময়িক কিছু প্রেক্ষাপটের দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখতে পাই খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৯ তে সক্রেটিস কে হেমলক বিষ পান করিয়ে নিষ্টুরভাবে হত্যা করেছিলঅপরাধ ছিল তৎকালীন সময়ে তিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন আর শাসকবর্গ মূর্খ ছিল১৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে গ্যালিলিওকে কারাবন্ধী করা হয়েছিলঅপরাধ কি? এতদিন মানুষ একটা বিষয় সম্পর্কে ভুল জানত, আর তিনি ভুলটা সংশোধন করে, সত্যটা আবিষ্কার করলেন১৯৬২ সালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয় নেলসন ম্যাডেলাকেদীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর ১৯৯০ সালে মুক্তি লাভ করে এবং কয়েদী ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পানদীর্ঘ ২৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্ধী থাকে মায়ানমারের আপোষহীন নেত্রী অংসান সুচীশুধু কি তাই, অন্যায় সহ্য না করে লেখনীয় মাধ্যমে প্রতিবাদ করার কারণে কারগারে যেতে হয়, আমাদের সকলের প্রিয় বিদ্রোহী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেএই হল দুনিয়ার বিচার ব্যবস্থা
আর যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন শুধু ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রচার-প্রসার প্রতিষ্ঠার অপরাধে ষড়যন্ত্রভাবে জেলে রাখা হয়েছে, ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে বর্বরতার ইতি টানা হয়েছেযেমন বর্তমান আরব বসন্তের ফসল মিসরের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাহকে গুলি করে শহীদ করা হয়শীর্ষস্থানীয় নেতা সাইয়্যদে কুতুব কে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়প্রখ্যাত ইমাম আবু হানিফা (রঃ) কে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে নির্যাতন করতে করতে শহীদ করা হয় ধরনের অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারেজামায়াতে ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় মাওলানা মওদুদী (রঃ) এর ব্যতিক্রম নাআপনি উল্লেখ করেছেন যে, কাদেয়ানীরে হত্যার অভিযোগে ওনার ফাঁসির রায় হয়েছিল তৎকালীন সরকার শ্রদ্ধেয় মাওলানার পরিচালিত আন্দোলনের তেজ সুদৃর প্রসারী চিন্তাভাবনা দেখে শুধুমাত্র আদর্শের দ্বন্ধের কারনে ওনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সাজানো রায় ঘোষণা করেছিলেকিন্তু বিবেকবান বিশ্বাসী তাওহীদী জনতার তীব্র আন্দোলন প্রতিবাদের মুখে জালেম সরকার রায় প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ওনাকে প্রাণ ভিক্ষার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিলকিন্তু শ্রদ্ধেয় মাওলানা বলেছিলেন- জীবন মৃত্যুর ফায়সালা আসমানে হয়, জমীনে নয়মহান আল্লাহর উপর কতটুকু অগাদ অবিচল বিশ্বাস থাকলে পরে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষমা না চেয়ে একথা বলা যায়সে যাহোক এখানে ওনার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত লেখার অবকাশ নাইআপনি আপনার লেখার পরোক্ষভাবে বলেছেন, আমরা না জেনে না বুঝে মাওলানা মওদূদী (রঃ) প্রতিষ্ঠিত জমায়াতে ইসলামী কে সমর্থন করছিআমি যদি আপনাকে বলি মাওলানা মওদূদী (রঃ) সম্পর্কে ঘণ্টা বক্তব্য দেনতাহলে ঘণ্টাতো দূরের কথা, ১০ মিনিটও আপনি পারবেন নাআপনারা Selected
 কিছু বিষয় জানছেন, শুনছেন এবং এগুলোই আওড়াতে থাকেনকিন্তু আমরা অন্ধ অনুগত্য বা অনুসরণে বিশ্বাসী নয়